টুঙ্গিপাড়া ও কোটালীপাড়া, গোপালগঞ্জ: শতবর্ষী ভাসমান ‘ধাপ’ চাষ থেকে জাতিসংঘের FAO বিশ্ব ঐতিহ্যের স্বীকৃতি — বাংলাদেশের আদি জৈব হাইড্রোপনিকস
📊 প্রজেক্টের প্রযুক্তিগত ও অর্থনৈতিক তথ্য সংক্ষেপ
১. আঞ্চলিক পটভূমি ও মাঠ পর্যায়ের কৃষি চ্যালেঞ্জ
গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া ও কোটালীপাড়ার নিচু বিল অঞ্চলে প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে ৫ থেকে ৬ মাস ফসলি জমি ৪–৮ ফুট পানির নিচে তলিয়ে থাকে। ফলে এই দীর্ঘ সময়ে প্রচলিত মাটিতে কোনো ফসল ফলানো সম্ভব হয় না।
২. প্রযুক্তিগত সমাধান ও বারি (BARI) প্রোটোকল প্রয়োগ
প্রকৃতির এই প্রতিকূলতা জয় করতে স্থানীয় কৃষকেরা শত বছর আগে উদ্ভাবন করেন কচুরিপানা, দুলালীলতা, টোপাপানা ও ধানের নাড়া দিয়ে তৈরি ভাসমান বেড বা ‘ধাপ’ চাষ—যা মূলত বিশ্বের প্রাচীনতম জৈব হাইড্রোপনিকস প্রযুক্তি। নারিকেলের ছোবড়ার গুঁড়া ও পচা কচুরিপানা দিয়ে তৈরি ছোট গোলাকার বল বা ‘টেমা’র ভেতর বীজ অঙ্কুরিত করে ভাসমান ধাপে রোপণ করা হয়।
৩. অর্জিত ফলন, অর্থনৈতিক সাফল্য ও কৃষকের অভিজ্ঞতা
জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (FAO) বাংলাদেশের এই ভাসমান ধাপ চাষকে ‘বৈশ্বিক গুরুত্বপূর্ণ কৃষি ঐতিহ্য ব্যবস্থা’ (GIAHS) হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। বর্তমানে ২৫,০০০-এর বেশি কৃষক পরিবার বর্ষার জলাবদ্ধ সময়ে ৩–৪ দফা বিষমুক্ত সবজি ও চারা উৎপাদন করে স্বাবলম্বী হচ্ছেন।
টুঙ্গিপাড়া ও কোটালীপাড়া, গোপালগঞ্জ-এর এই বাস্তব সাফল্য প্রমাণ করে যে সঠিক প্রশিক্ষণ এবং বারি (BARI) উদ্ভাবিত স্টক সলিউশন ‘এ’ ও ‘বি’ ব্যবহার করলে বাংলাদেশের যেকোনো অঞ্চলে মাটি ছাড়াই উচ্চমূল্যের নিরাপদ ফসল উৎপাদন করে লাভবান হওয়া সম্ভব।
