উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্র (বারি, গাজীপুর): বাংলাদেশে আধুনিক বিজ্ঞানসম্মত হাইড্রোপনিক প্রযুক্তির উদ্ভাবন ও বিস্তারের ইতিহাস
📊 প্রজেক্টের প্রযুক্তিগত ও অর্থনৈতিক তথ্য সংক্ষেপ
১. আঞ্চলিক পটভূমি ও মাঠ পর্যায়ের কৃষি চ্যালেঞ্জ
বাংলাদেশে প্রতি বছর আবাসন, শিল্পায়ন ও নদীভাঙনের ফলে প্রায় ০.৭% হারে আবাদি জমি হ্রাস পাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তার জন্য মাটিবিহীন ও উল্লম্ব চাষাবাদ প্রযুক্তির দেশীয়করণ অপরিহার্য হয়ে পড়ে।
২. প্রযুক্তিগত সমাধান ও বারি (BARI) প্রোটোকল প্রয়োগ
বারি গাজীপুরের উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্রের (HRC) সবজি বিভাগের বিজ্ঞানী বৃন্দ—এ কে এম সেলিম রেজা মল্লিক, ড. জি এম এ হালিম, ড. মোঃ আসাদুজ্জামান, ড. মোঃ আজমত উল্লাহ, ড. মোহাম্মদ আবু তাহের মাসুদ এবং ড. ফেরদৌসী ইসলাম—দীর্ঘ গবেষণার মাধ্যমে বাংলাদেশের আবহাওয়া উপযোগী সার্কুলেটিং ও নন-সার্কুলেটিং হাইড্রোপনিক প্রযুক্তি এবং ২০১৮ সালের ঐতিহাসিক বারি হাইড্রোপনিকস ম্যানুয়াল প্রকাশ করেন।
৩. অর্জিত ফলন, অর্থনৈতিক সাফল্য ও কৃষকের অভিজ্ঞতা
বারির এই গবেষণার ফলে ব্যয়বহুল বিদেশি রেডিমেড সলিউশনের পরিবর্তে মাত্র ১০টি সহজলভ্য রাসায়নিক উপাদান দিয়ে দেশেই স্বল্প খরচে স্টক ‘এ’ ও ‘বি’ তৈরি সম্ভব হয়েছে, যা বাংলাদেশে বাণিজ্যিক হাইড্রোপনিকসের ভিত্তি স্থাপন করেছে।
জয়দেবপুর (বারি সদর দপ্তর), গাজীপুর-এর এই বাস্তব সাফল্য প্রমাণ করে যে সঠিক প্রশিক্ষণ এবং বারি (BARI) উদ্ভাবিত স্টক সলিউশন ‘এ’ ও ‘বি’ ব্যবহার করলে বাংলাদেশের যেকোনো অঞ্চলে মাটি ছাড়াই উচ্চমূল্যের নিরাপদ ফসল উৎপাদন করে লাভবান হওয়া সম্ভব।
