📞 হটলাইন (আশিকুর): +৮৮০ ১৩২৪-৪৪৫৪০০  •  💬 ২৪/৭ হোয়াটসঅ্যাপ: +৮৮০ ১৩২৪-৪৪৫৪০১
🇧🇩 বাংলাদেশের ৬৪ জেলা ও ৮টি আঞ্চলিক শাখায় সেবা ও ডেলিভারি
H
হাইড্রোপনিকসবিডি মাটিবিহীন কৃষি ও গবেষণা ইনস্টিটিউট
বই ২: মাধ্যমিক বাণিজ্যিক কোর্স  •  পাঠ ২.০৭  •  ২৫ মিনিট

বাণিজ্যিক হাইড্রোপনিক টমেটো ও চেরি টমেটো চাষ (বারি হাইব্রিড জাত, ছাঁটাই ও পরাগায়ন)

ডাচ বাকেট ও কোকোপিট স্ল্যাবে অনির্দিষ্ট বর্ধনশীল (Indeterminate) টমেটো ও চেরি টমেটো চাষ, একক কাণ্ড ছাঁটাই, লিন অ্যান্ড লোয়ারিং এবং ব্লসম এন্ড রট প্রতিরোধ।

বই ২ • মাধ্যমিক বাণিজ্যিক চাষাবাদ কোর্স
⏱️ ২৫ মিনিট  •  🎓 মাধ্যমিক-উন্নত (বাণিজ্যিক ফল ফসল)

📖 অধ্যায়ের সারসংক্ষেপ — বাণিজ্যিক হাইড্রোপনিক টমেটো ও চেরি টমেটো চাষ (বারি হাইব্রিড জাত, ছাঁটাই ও পরাগায়ন)

বাণিজ্যিক গ্রিনহাউস হাইড্রোপনিক্সে বিশ্বজুড়ে সবচেয়ে বেশি চাষকৃত ও অর্থকরী ফসল হলো টমেটো এবং উচ্চমূল্যের চেরি টমেটো। মাটির তুলনায় কোকোপিট ড্রিপ বা ডাচ বাকেট পদ্ধতিতে টমেটোর ফলন ৩ থেকে ৪ গুণ বেশি হয় এবং ফলের আকার, উজ্জ্বলতা ও ব্রিক্স (মিষ্টতা) মান থাকে অসাধারণ। এই অধ্যায়ে আমরা বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (BARI) উদ্ভাবিত গ্রীষ্ম ও শীতকালীন হাইব্রিড জাত নির্বাচন, অনির্দিষ্ট বর্ধনশীল (Indeterminate) গাছের একক কাণ্ড প্রশিক্ষণ, বৃদ্ধি পর্যায় অনুযায়ী ইসি/পিএইচ পরিবর্তন এবং ব্লসম এন্ড রট (Blossom End Rot) সম্পূর্ণরূপে নির্মূলের কারিগরি পদ্ধতি শিখব।

🎯 এই অধ্যায়ে আপনি যা শিখবেন

  • বারি হাইব্রিড টমেটো-৪, ৮, ১১ এবং বারি চেরি টমেটো-১ সহ বাণিজ্যিক অনির্দিষ্ট বর্ধনশীল (Indeterminate) জাতের বৈশিষ্ট্য ও উৎপাদন ক্ষমতা বিশ্লেষণ করতে পারবেন।
  • টমেটো গাছের অঙ্গজ বৃদ্ধি থেকে ফল পাকা পর্যন্ত ৪টি ধাপে পুষ্টি দ্রবণের ইসি (১.৫ থেকে ৩.৫ dS/m) এবং পটাশিয়াম-ক্যালসিয়াম অনুপাত নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন।
  • পার্শ্বকুশি ছাঁটাই (Sucker Pruning), ক্লাস্টার থিনিং এবং হাই-ওয়্যার ‘লিন অ্যান্ড লোয়ারিং’ (Lean and Lowering) পদ্ধতি বাস্তবায়ন করতে পারবেন।
  • ফলের নিচের অংশ কালো হয়ে পচে যাওয়া (Blossom End Rot) এবং ফলের গায়ে ফাটল ধরা (Fruit Cracking) প্রতিরোধের বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থা নিতে পারবেন।
💡 মূল সূত্র ও প্রধান নিয়ম: বাণিজ্যিক টমেটোর পুষ্টি অনুপাত (ফল ধরা অবস্থায়): নাইট্রোজেন (N) : পটাশিয়াম (K) = ১ : ১.৮ (অর্থাৎ প্রতি ২০০ ppm নাইট্রোজেনের বিপরীতে ৩৫০–৩৬০ ppm পটাশিয়াম ও ২০০ ppm ক্যালসিয়াম নিশ্চিত করতে হবে)

বারি গবেষণাগারে হাইড্রোপনিক পদ্ধতিতে থোকায় থোকায় ঝুলে থাকা উচ্চফলনশীল টমেটো
চিত্র ১: চিত্র ২.০৭.ক: বারি (BARI) নিয়ন্ত্রিত গ্রিনহাউসে কোকোপিট সাবস্ট্রেটে উৎপাদিত নিখুঁত ও সমআকারের হাইব্রিড টমেটোর থোকা।

১. জাত নির্বাচন: বারি হাইব্রিড টমেটো ও বাণিজ্যিক চেরি টমেটো

বাণিজ্যিক গ্রিনহাউসে চাষের জন্য টমেটোর জাতকে প্রধানত দুই ভাগে ভাগ করা হয়: নির্দিষ্ট বর্ধনশীল (Determinate বা ঝোপালো জাত, যা ৩–৪ ফুট লম্বা হয়ে একসাথে ফল দিয়ে শেষ হয়ে যায়) এবং অনির্দিষ্ট বর্ধনশীল (Indeterminate বা লতানো জাত, যা লম্বায় ১৫–২৫ ফুট পর্যন্ত বাড়ে এবং টানা ৬–৮ মাস ধরে থোকায় থোকায় ফল দিতে থাকে)। দীর্ঘমেয়াদী বাণিজ্যিক গ্রিনহাউসের জন্য ‘অনির্দিষ্ট বর্ধনশীল’ জাত এবং স্বল্প উচ্চতার পলিনেট হাউসের জন্য বারি উদ্ভাবিত সেমি-ইনডিটারমিনেট হাইব্রিড জাতগুলো সবচেয়ে লাভজনক।

বাংলাদেশের আবহাওয়ায় গ্রীষ্ম ও বর্ষাকালে (মার্চ–অক্টোবর) যখন বাজারে টমেটোর দাম কেজি প্রতি ১২০–১৮০ টাকা থাকে, তখন চাষের জন্য বারি হাইব্রিড টমেটো-৪, বারি হাইব্রিড টমেটো-৮ এবং বারি হাইব্রিড টমেটো-১১ অত্যন্ত সফল ও তাপসহিষ্ণু জাত। অন্যদিকে সুপারশপ ও সালাদ বাজারের জন্য বারি চেরি টমেটো-১ বা আমদানিকৃত লাল ও হলুদ চেরি টমেটো (যেমন Sweet Million, Sun Gold) চাষ করলে কেজি প্রতি ৩০০–৪৫০ টাকা পাইকারি মূল্য পাওয়া যায়।

  • চারা রোপণের বয়স ও মাধ্যম: ২৫–২৮ দিন বয়সী সুস্থ ও ভাইরাসমুক্ত চারা ১০ লিটারের ডাচ বাকেট (৮০% কোকোপিট + ২০% পার্লাইট) অথবা ১ মিটার গ্রো-ব্যাগে রোপণ করতে হবে।
  • রোপণ ঘনত্ব: সারি থেকে সারি ১২০ সেমি (যমজ সারি হলে ৬০ সেমি) এবং গাছ থেকে গাছ ৪৫–৫০ সেমি (প্রতি বর্গমিটারে ২.৫ থেকে ৩টি গাছ)।
  • ড্রিপ সেচ সেটআপ: প্রতিটি গাছের গোড়ায় ২ লিটার/ঘণ্টা ক্ষমতার প্রেশার-কম্পেনসেটেড ড্রিপার স্থাপন করে দিনে ৬–১০ বার অল্প অল্প করে (Pulse Irrigation) পুষ্টি দ্রবণ দিতে হবে।
  • ফলের মিষ্টতা (Brix Level) বৃদ্ধি: চেরি টমেটোর ক্ষেত্রে ফল পাকার সময় ইসি ৩.০–৩.৫ dS/m-এ রাখলে ফলের ব্রিক্স মান ৮–১০%-এ উন্নীত হয়, যা ক্রেতাদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়।

২. একক কাণ্ড ছাঁটাই (Single-Stem Pruning) ও কৃত্রিম পরাগায়ন

হাইড্রোপনিক টমেটো গাছে প্রচুর পুষ্টি পাওয়ায় মূল কাণ্ড ও প্রতিটি পাতার সংযোগস্থল (Node) থেকে দ্রুত পার্শ্বকুশি বা ‘সাকার’ (Sucker) বের হয়। এই পার্শ্বকুশিগুলো না ভাঙলে গাছ ঝোপালো হয়ে যায়, ভেতরে আলো-বাতাস ঢোকে না এবং ফলের আকার ছোট হয়ে যায়। তাই বাণিজ্যিক চাষে প্রতিটি গাছকে কেবল একটিমাত্র প্রধান কাণ্ডে (Single Leader Stem) ওপরের দিকে ২.৫–৩ মিটার উঁচু ওভারহেড তারের সাথে পলিপ্রোপিলিন রশি ও টমেটো ক্লিপ দিয়ে ঝুলিয়ে বড় করা হয়।

টমেটোর ফুলে পুরুষ ও স্ত্রী অঙ্গ একই ফুলে থাকে (স্ব-পরাগায়িত), কিন্তু পরাগরেণু ঝরে গর্ভমুণ্ডে পড়ার জন্য বাতাসের ঝাঁকুনি বা মৌমাছির কম্পন (Buzz Pollination) প্রয়োজন হয়। বদ্ধ গ্রিনহাউস বা ইনসেক্ট নেট ঘেরা পলিনেট হাউসে বাতাস কম থাকায় প্রাকৃতিক পরাগায়ন ব্যাহত হয়। তাই প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে ১১টার মধ্যে (যখন আর্দ্রতা ৬০–৭০% থাকে) বৈদ্যুতিক ভাইব্রেটর ওয়ান্ড (Pollination Vibrator), ইলেকট্রিক টুথব্রাশ বা মাচার তারে মৃদু ঝাঁকুনি দিয়ে কৃত্রিম পরাগায়ন নিশ্চিত করতে হয়।

  • সাকার ছাঁটাই (Desuckering): পার্শ্বকুশি ২–৪ সেমি থাকা অবস্থাতেই প্রতি সপ্তাহে দুবার সকালের দিকে হাত দিয়ে ভেঙে ফেলতে হবে (বড় হলে কাঁচি ব্যবহার না করাই ভালো, এতে ভাইরাস ছড়ায়)।
  • নিচের পুরনো পাতা অপসারণ (De-leafing): সবচেয়ে নিচের ফলের থোকা (Truss) পূর্ণ আকার পেলে তার নিচের সবগুলো পুরনো পাতা কেটে ফেলুন—এতে গোড়ায় বাতাস চলাচল বাড়ে ও ছত্রাক দূর হয়।
  • থোকা ছাটাই (Truss Thinning): বড় আকারের বিফস্টেক বা হাইব্রিড টমেটোর ক্ষেত্রে প্রতি থোকায় সবচেয়ে সুস্থ ৫–৬টি ফল রেখে বাকি ছোট ফুল/ফল কেটে ফেললে প্রতিটি ফল ১৫০–২০০ গ্রাম ওজনের ও সমআকারের হয়।
  • লিন অ্যান্ড লোয়ারিং (Lean and Lowering): গাছ ওভারহেড তারের উচ্চতায় পৌঁছালে রশির হুক থেকে ৫০ সেমি সুতা ছেড়ে দিয়ে গাছকে একই দিকে হেলিয়ে নিচে নামিয়ে দেওয়া হয়, ফলে গাছ দীর্ঘ ৮ মাস ফল দিতে পারে।
বাণিজ্যিক হাইড্রোপনিক চেরি টমেটো চাষ ও রশি দিয়ে মাচায় প্রশিক্ষণ
চিত্র ২: চিত্র ২.০৭.খ: উচ্চ বাজারমূল্যের চেরি টমেটো চাষ—যেখানে প্রতিটি থোকায় ১৫–২৫টি করে সুমিষ্ট ফল ধরে।

৩. ধাপভিত্তিক পুষ্টি ব্যবস্থাপনা ও ব্লসম এন্ড রট (BER) প্রতিকার

টমেটো গাছের জীবনচক্রে পুষ্টির চাহিদা নাটকীয়ভাবে পরিবর্তিত হয়। চারা রোপণের প্রথম ৩ সপ্তাহ গাছের শিকড় ও পাতা গঠনের জন্য নাইট্রোজেন ও ফসফরাস বেশি লাগে (ইসি ১.৬–২.০ dS/m)। কিন্তু প্রথম ও দ্বিতীয় থোকায় ফুল আসার পর থেকে গাছে পটাশিয়াম (K), ক্যালসিয়াম (Ca) ও ম্যাগনেসিয়ামের (Mg) চাহিদা দ্বিগুণ হয়ে যায়। এই সময় নাইট্রোজেন বেশি দিলে গাছ শুধু পাতাই বাড়াবে, ফুল ঝরে যাবে (Flower Drop) এবং ফল ফাঁপা (Puffy Fruit) হবে।

টমেটো চাষিদের সবচেয়ে পরিচিত ক্ষতি হলো ‘ব্লসম এন্ড রট’ (Blossom End Rot – BER)—যাতে টমেটোর নিচের অংশে প্রথমে জলছাপের মতো দাগ পড়ে এবং পরে তা কালো ও চামড়ার মতো শক্ত হয়ে পচে যায়। এটি কোনো ছত্রাকজনিত রোগ নয়, বরং ফলের বৃদ্ধি পর্যায়ে কোষপ্রাচীরে ক্যালসিয়ামের তীব্র ঘাটতি এবং অনিয়মিত সেচের ফলাফল। কোকোপিট কখনোই অতিরিক্ত শুকাতে দেওয়া যাবে না এবং দুপুরে প্রচণ্ড রোদে গাছ যেন পানির অভাবে নেতিয়ে না পড়ে তা নিশ্চিত করতে হবে।

  • ইসি ও পিএইচ সূচি: চারা অবস্থায় ইসি ১.৫–১.৮ dS/m, ফুল আসায় ২.০–২.৪ dS/m, এবং ফল ধরা ও পাকা অবস্থায় ২.৫–৩.২ dS/m; পিএইচ সর্বদা ৫.৮–৬.২।
  • ব্লসম এন্ড রট প্রতিরোধ: পুষ্টি দ্রবণে ক্যালসিয়াম ১৮০–২২০ ppm রাখুন, অ্যামোনিয়াম নাইট্রোজেন (NH4+) কমান এবং পটাশিয়াম যেন অতিরিক্ত হয়ে ক্যালসিয়াম শোষণে বাধা না দেয় সেদিকে খেয়াল রাখুন।
  • ফল ফাটা (Fruit Cracking) রোধ: দীর্ঘক্ষণ সেচ বন্ধ রাখার পর হঠাৎ প্রচুর পানি দিলে বা রাতে ইসি খুব কম থাকলে ফলের ভেতর পানি ঢুকে খোসা ফেটে যায়; তাই সেচের ব্যবধান সুষম রাখুন।
  • বোরন ও ম্যাগনেসিয়াম স্প্রে: ফুল আসার সময় প্রতি লিটার পানিতে ১ গ্রাম সলুবোর (বোরন) ও ২ গ্রাম ক্যালসিয়াম নাইট্রেট পাতায় স্প্রে করলে ফল সেটিং হার ৯৫%-এর ওপরে থাকে।

হাইড্রোপনিক টমেটোর বৃদ্ধি পর্যায়ভিত্তিক পুষ্টি (EC/pH) ও সেচ ব্যবস্থাপনা সূচি

বৃদ্ধির পর্যায় ও বয়স লক্ষ্যমাত্রা ইসি (dS/m) ও পিএইচ প্রধান পুষ্টি ফোকাস (N:P:K:Ca) দৈনিক সেচ পরিমাণ (প্রতি গাছ) প্রধান পরিচর্যা কাজ
চারা ও শিকড় স্থাপন (১–৩ সপ্তাহ) EC: ১.৫–১.৮ | pH: ৫.৮ সুষম বৃদ্ধি ও শিকড় গঠন (১ : ০.৫ : ১.২ : ১) ৪০০–৬০০ মিলি (৪–৫ বার ড্রিপ) রশিতে গাছ বাঁধা ও প্রথম সাকার ভাঙা
প্রথম থেকে তৃতীয় থোকার ফুল (৪–৬ সপ্তাহ) EC: ২.০–২.৪ | pH: ৫.৮–৬.০ ফুল গঠন ও বোরন বৃদ্ধি (১ : ০.৬ : ১.৫ : ১.১) ৮০০–১,২০০ মিলি (৬–৮ বার ড্রিপ) দৈনিক সকাল ১০টায় ভাইব্রেটর দিয়ে পরাগায়ন
ফল গঠন ও দ্রুত বৃদ্ধি (৭–১০ সপ্তাহ) EC: ২.৪–২.৮ | pH: ৫.৮–৬.২ উচ্চ পটাশিয়াম ও ক্যালসিয়াম (১ : ০.৫ : ১.৮ : ১.২) ১,৫০০–২,২০০ মিলি (৮–১০ বার ড্রিপ) নিচের পুরনো পাতা ছাঁটাই ও থোকা সাপোর্ট ক্লিপ লাগানো
ফল পাকা ও পূর্ণ হারভেস্ট (১১ সপ্তাহ–৭ মাস) EC: ২.৬–৩.২ (চেরিতে ৩.৫) | pH: ৬.০ মিষ্টতা ও রং বৃদ্ধি (১ : ০.৫ : ২.০ : ১.২) ২,০০০–২,৫০০ মিলি (২০% ড্রেনেজসহ) সপ্তাহে ২–৩ বার ব্রেকার স্টেজে ফল সংগ্রহ ও লোয়ারিং

✅ কৃষকের করণীয় চেকলিস্ট (ধাপে ধাপে)

  • ✔️ কোকোপিট স্ল্যাব বা ডাচ বাকেটের ড্রেনেজ ইসি এবং পিএইচ প্রতিদিন দুপুরে পরীক্ষা করা হচ্ছে কি?
  • ✔️ প্রতিদিন সকাল ৯–১১টার মধ্যে ফুলের থোকায় কম্পন (Vibration) দিয়ে পরাগায়ন সম্পন্ন করা হয়েছে কি?
  • ✔️ সপ্তাহে দুবার সব পার্শ্বকুশি (Suckers) এবং নিচের হলুদ/রোগাক্রান্ত পাতা অপসারণ করা হয়েছে কি?
  • ✔️ ফল ধরার পর্যায়ে পুষ্টি দ্রবণে পটাশিয়াম ও ক্যালসিয়ামের মাত্রা বাড়ানো হয়েছে কি?
  • ✔️ পাতা ও কাণ্ড ছাঁটাইয়ের কাঁচি প্রতি সারি পরিবর্তনের সময় ৭০% অ্যালকোহল বা ব্লিচ দ্রবণে ডুবিয়ে নেওয়া হচ্ছে কি?

⚠️ সাধারণ ভুল ও দ্রুত সমাধান

  • ⚠️ পার্শ্বকুশি (Suckers) না ভেঙে গাছকে ঝোপালো হতে দেওয়া—এতে গ্রিনহাউসের ভেতর জঙ্গল তৈরি হয়, সাদা মাছি ও নাবী ধ্বসা রোগ (Late Blight) ছড়ায় এবং বিক্রয়যোগ্য ফলের ওজন অর্ধেকে নেমে আসে।
  • ⚠️ গ্রীষ্মকালে গ্রিনহাউসের তাপমাত্রা ৩৫° সেলসিয়াসের ওপরে চলে যাওয়া—যার ফলে টমেটোর পরাগরেণু বন্ধ্যা (Sterile) হয়ে যায় এবং ফুল ঝরে পড়ে কোনো ফল ধরে না।
  • ⚠️ কোকোপিটে লবণের জমাট বাঁধা (Salt Buildup) পরিষ্কার না করা—ড্রেনেজ ইসি ৪.০ dS/m ছাড়িয়ে গেলে গাছ পানি টানতে পারে না এবং ব্যাপক হারে ব্লসম এন্ড রট দেখা দেয়।

🇧🇩 বাংলাদেশের চাষিদের জন্য মাঠ পর্যায়ের বিশেষ পরামর্শ

বাংলাদেশ মাঠ টিপস: বাংলাদেশে জুলাই থেকে নভেম্বর মাস পর্যন্ত বাজারে দেশি টমেটো থাকে না এবং ভারত থেকে আমদানিকৃত টমেটোর ওপর নির্ভর করতে হয়। আপনি যদি মে মাসের মাঝামাঝি ইনসেক্ট-প্রুফ পলিনেট হাউসে ‘বারি হাইব্রিড টমেটো-৮’ বা ‘বারি হাইব্রিড টমেটো-১১’-এর চারা রোপণ করেন, তবে জুলাই মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে অক্টোবর পর্যন্ত প্রতি কেজি টমেটো খামার থেকেই ১২০–১৫০ টাকা পাইকারি দরে বিক্রি করতে পারবেন। বর্ষায় উচ্চ আর্দ্রতায় পরাগায়ন নিশ্চিত করতে অবশ্যই হ্যান্ডহেল্ড বৈদ্যুতিক পলিনেটর ব্যবহার করবেন।

❓ সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন ও উত্তর (FAQ)

❓ টমেটো গাছে প্রচুর ফুল আসছে কিন্তু ফল না ধরে ফুলগুলো হলুদ হয়ে ঝরে পড়ছে কেন?

ফুল ঝরে পড়ার (Blossom Drop) তিনটি প্রধান কারণ রয়েছে: ১) দিনের তাপমাত্রা ৩২° সেলসিয়াসের বেশি বা রাতের তাপমাত্রা ২৬° সেলসিয়াসের বেশি হওয়া, ২) বদ্ধ ঘরে পরাগায়ন না হওয়া, এবং ৩) পুষ্টি দ্রবণে নাইট্রোজেনের মাত্রা বেশি থাকা বা বোরনের অভাব। গ্রিনহাউসে ফগার ও শেড নেট চালিয়ে তাপমাত্রা কমান, সকালে ফুলের থোকায় মৃদু কম্পন দিন এবং নাইট্রোজেন কমিয়ে পটাশিয়াম ও বোরন নিশ্চিত করুন।

❓ দূরবর্তী বাজারে পাঠানোর জন্য টমেটো কোন পর্যায়ে গাছ থেকে সংগ্রহ (Harvest) করা উচিত?

দূরের পাইকারি বাজার বা সুপারশপে পাঠানোর জন্য টমেটো পুরোপুরি লাল ও নরম হওয়া পর্যন্ত গাছে রাখা যাবে না। টমেটোর নিচের অংশে যখন সবুজ ভাব কেটে হালকা গোলাপি বা কমলা রঙের আভা দেখা দেয়—যাকে ‘ব্রেকার স্টেজ’ (Breaker Stage) বা ‘টার্নিং স্টেজ’ বলা হয়—তখনই বৃত্তিসহ (Calyx) সংগ্রহ করতে হবে। তবে চেরি টমেটো গাছপাকা অবস্থায় (৮০–৯০% রঙিন হলে) সংগ্রহ করাই উত্তম কারণ কাঁচা পাড়লে এর মিষ্টতা বাড়ে না।

❓ একটি হাইড্রোপনিক টমেটো গাছ থেকে এক মৌসুমে গড়ে কত কেজি ফলন পাওয়া যায়?

পলিনেট হাউসে ৪–৫ মাসের স্বল্পমেয়াদী বারি হাইব্রিড জাত থেকে গাছপ্রতি গড়ে ৪ থেকে ৬ কেজি এবং নিয়ন্ত্রিত ফ্যান-অ্যান্ড-প্যাড গ্রিনহাউসে ৭–৮ মাসের লম্বা মৌসুমে অনির্দিষ্ট বর্ধনশীল হাইব্রিড জাত থেকে গাছপ্রতি ৮ থেকে ১২ কেজি পর্যন্ত প্রথম শ্রেণীর টমেটো পাওয়া সম্ভব।

🇬🇧 English Technical Reference Summary (ইংরেজি সারসংক্ষেপ)
Lesson 2.07 covers commercial hydroponic tomato and cherry tomato production using Dutch buckets and cocopeat grow bags. Topics include selecting BARI summer/winter hybrids and indeterminate cultivars, single-stem pruning, lean-and-lowering high-wire trellising, mechanical buzz pollination, stage-specific EC/N:K adjustments, and preventing Blossom End Rot (BER).

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *